
কাছাকাছি গিয়ে আবারো শিরোপা হাতছাড়া করার আক্ষেপ সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। শেষ বলে যখন ৫ রান প্রয়োজন, তখন কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ভারতকে ম্যাচ জেতান দিনেশ কার্তিক। দলের এমন হারে হতাশ পুরো বাংলাদেশ দল। সেই হতাশায় যেন প্রতিধ্বনিত হলো বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে।
ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, ‘এমন ফাইনাল নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমার ধারণা, আমরা দারুণ খেলেছি। যে কেউ ম্যাচটি জিততে পারত। কিন্তু স্নায়ুচাপটা ভারত ভালোভাবে সামলেছে।’ এ সময় রুবেলের করা ওভারটিকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে মন্তব্য করেন সাকিব, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমাদের সেরা বোলার ১৮ ও ১৯ ওভারে বল করুক। ওই ওভারে রুবেল যদি ১৫ রানও দিত, তবু আমরা সামলাতে পারতাম। সে যদিও তার লেংথ মিস করেনি, কিন্তু দিনেশ কার্তিক দারুণ খেলেছে। প্রথম বলে এসেই ছক্কা মেরেছে। আমরা জানতাম, ১৬৬ রানে ম্যাচ জেতা কঠিন। তবু আমাদের আশা ছিল। সবাই তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। হারাটা কষ্টের। কিন্তু আমরা ভালো খেলেছি।’
এর আগে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারো ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের টপঅর্ডার। যদিও শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। ৩.১ ওভার থেকে ২৭ রান তুলে নেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। এর পরই সেই পুরনো রোগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আঁটসাঁট বোলিং করা ওয়াশিংটন সুন্দরের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে সার্কেলের মধ্যেই সুরেশ রায়নার হাতে ধরা পড়েন লিটন। অতি আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিলেন ৯ বলে ১১ রান করা লিটন। পরের ওভারেই বিদায়ঘণ্টা বাজল দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের। এ সময় যুজবেন্দ্র চাহালকে লংঅনের ওপর দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন এ বাঁহাতি ওপেনার। সীমানার ধার থেকে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন শার্দুল ঠাকুর। ১৩ বলে ১৫ রান করেন তামিম।
একই রানের মাথায় ২ উইকেট পতনের পরও উচ্চাভিলাষী শট খেলা থামাননি টপঅর্ডারের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা। সৌম্য সরকারের ইনিংসটি স্থায়িত্ব পায় মাত্র ২ বল। উইকেটে এসে থিতু না হয়েই বিগ হিট নিতে যান এ বাঁহাতি। এ সময় চাহালকে অনেকটা ফ্রন্টফুটে সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ধরা পড়েন সৌম্য। একই ওভারে দুটি উইকেট পান চাহাল। এ অবস্থায় দল তাকিয়ে ছিল আগের ম্যাচগুলোয় দারুণ ব্যাট করা মুশফিকের দিকে। শুরুটা করেছিলেন বেশ সতর্কভাবেই। কিন্তু চাহালের গুগলিকে ছক্কা মারতে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে তাকে। ব্যক্তিগত ৯ রানে পরিণত হন বিজয় শঙ্করের ক্যাচে।
সাব্বির প্রান্ত আগলে রেখেও সামলাতে পারেননি ধস। ভালো খেলার ইঙ্গিত ছিল আগের খেলার ম্যাচ উইনার মাহমুদউল্লাহর। সাব্বিরের সঙ্গে একটা ভালো জুটির ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন। ১৬ বলের ইনিংসে করেন ২১ রান। ২৫ বলের জুটিতে পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৩৬ রান। কিন্তু এর পরই বিনা মেঘে বজ্রাঘাত! পরিস্থিতি ভুলে অযথাই রানের জন্য দৌড় দিলেন মাহমুদউল্লাহ। মাঝপথে গিয়ে থেমেও গেলেন। সুযোগ কাজে লাগালেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। এ রানআউট থেকেও শিক্ষা হয়নি। ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই রানআউট হলেন সাকিবও। ৭ বলে ৭ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বাংলাদেশ ইনিংসের সবটুকু জুড়েই সাব্বির। ১৮.২ ওভারের মাথায় ব্যক্তিগত ৭৭ রানে সাজঘরমুখো হন সাব্বির। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের (৭ বলে ১৯*) আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত এ রান জেতার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ভারত জিতে নেয় শিরোপা।
কোন মন্তব্য নেই:
Write মন্তব্য(গুলি)