
বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১৮

মধুমিতা বিশ্বাসের কবিতা--
সোডিয়াম বিভ্রমের বহুরুপ
.............................................

গ্রাফাইট ইচ্ছায় সময়কে প্রতিস্থাপন করতেই অবক্ষার সমস্ত অন্ধধ্বনি পৌঁছে দিচ্ছে বার্তা; শ্রেষ্ঠ ইতিহাস বৃত্তান্তে।
অনুপাতে বিভক্ত, শান্ত সংযত একান্ত প্রহরে নিয়নের আলো কাঁধে, দার্শনিকের ঘোরগ্রস্থ চোখ ভুলে যায় টেলিস্কোপের চশমা; আবিস্কার সুত্রের প্রয়োগ বিদ্যায়।
ধীর গতিতে বাড়তে থাকা দুরন্তের তপ্ত বিভাজনে, ক্রমশ দুরে যেতে থাকি
শত জনমের ভুল শর্তে।
সীমাহীন শব্দের দৃশ্যত জন্মালেই উদ্ভন্ন উৎরাই জ্যামিতিক বিরোধে হারমানা সোডিয়াম বিভ্রমের বহরুপ; ভারী পর্দার ট্রামলাইনে, বিজ্ঞাপনের জন্ম দেয়।
কনিকায় প্রবাহিত হওয়া মর্মবিতানের অনুভূতি ছিঁড়া রক্তের আপেল রাঙা জীবন;
আঁধারকে কেন্দ্র করে
কালচে রং ধারণ করেছে
আত্মগত অবস্থানে।
.............................................

গ্রাফাইট ইচ্ছায় সময়কে প্রতিস্থাপন করতেই অবক্ষার সমস্ত অন্ধধ্বনি পৌঁছে দিচ্ছে বার্তা; শ্রেষ্ঠ ইতিহাস বৃত্তান্তে।
অনুপাতে বিভক্ত, শান্ত সংযত একান্ত প্রহরে নিয়নের আলো কাঁধে, দার্শনিকের ঘোরগ্রস্থ চোখ ভুলে যায় টেলিস্কোপের চশমা; আবিস্কার সুত্রের প্রয়োগ বিদ্যায়।
ধীর গতিতে বাড়তে থাকা দুরন্তের তপ্ত বিভাজনে, ক্রমশ দুরে যেতে থাকি
শত জনমের ভুল শর্তে।
সীমাহীন শব্দের দৃশ্যত জন্মালেই উদ্ভন্ন উৎরাই জ্যামিতিক বিরোধে হারমানা সোডিয়াম বিভ্রমের বহরুপ; ভারী পর্দার ট্রামলাইনে, বিজ্ঞাপনের জন্ম দেয়।
কনিকায় প্রবাহিত হওয়া মর্মবিতানের অনুভূতি ছিঁড়া রক্তের আপেল রাঙা জীবন;
আঁধারকে কেন্দ্র করে
কালচে রং ধারণ করেছে
আত্মগত অবস্থানে।
সোমবার, ১৯ মার্চ, ২০১৮

শ্রীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু ।
শেখ ছফির আহম্মেদ সাগর,গাজীপুরঃ গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে শফিউল আলম(৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শ্রীপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে সোমবার বিকাল ৪:২০ এর সময় কমলাপুরগামী বলাকা ট্রেন শ্রীপুর ত্যাগ করার সময়, ট্রেন থেকে তারাহুড়ো করে নামার এক পর্যায়ে ট্রেনের ফাঁকায় পড়ে যায়। ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার সাথেসাথেই মারা যায়।
শ্রীপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে সোমবার বিকাল ৪:২০ এর সময় কমলাপুরগামী বলাকা ট্রেন শ্রীপুর ত্যাগ করার সময়, ট্রেন থেকে তারাহুড়ো করে নামার এক পর্যায়ে ট্রেনের ফাঁকায় পড়ে যায়। ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার সাথেসাথেই মারা যায়।
নিহতের সহকর্মী মোঃ লিটন জানান,নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার মধ্যবয়রা গ্রামের আলালউদ্দিনের ছেলে নিহত মোঃ শফিউল আলম (৩৫)
ময়মনসিংহ পল্লীববিদ্যুৎ সমিতি২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের মিটারিডার কাম মেসেঞ্জার এ চাকুরী করে আসছেন। নিহত শফিউল আলমের একজন ছেলেও রয়েছে।
ময়মনসিংহ পল্লীববিদ্যুৎ সমিতি২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের মিটারিডার কাম মেসেঞ্জার এ চাকুরী করে আসছেন। নিহত শফিউল আলমের একজন ছেলেও রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ১৯ মার্চ।

লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আজ ঐতিহাসিক ১৯ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের (সেই সময়ের জয়দেবপুর) বীর জনতা গর্জে উঠেছিল এবং সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল । মনে পড়ে মার্চের সেই উত্তাল দিনগুলিতে বাঙালি জাতির এক অবিস্মরণীয় গণ-অভ্যুত্থানের কথা। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ দুপুরে হঠাৎ এক বেতার ভাষণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন। একথা শোনামাত্র সারা দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ মুখর হয়ে এ ঘোষণার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে। দেশের সর্বত্রই স্লোগান ওঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর-বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা,বাংলা-বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা ,পদ্মা- মেঘনা- যমুনা’, ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি বাঙালি’।
বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পূর্বানী হোটেলে এক সভায় ইয়াহিয়ার ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ঢাকায় ২ মার্চ এবং সারা বাংলাদেশে (তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান) ৩ মার্চ হরতাল আহবান করেন এবং ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা আহবান করেন।
জয়দেবপুরে (আজকের গাজীপুর) আমার পরামর্শে ২ মার্চ রাতে তৎকালীন থানা পশুপালন কর্মকর্তা আহম্মেদ ফজলুর রহমানের সরকারি বাসায় তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. হাবিব উল্ল্যাহ এক সর্বদলীয় সভা আহবান করেন। সভায় আমাকে (আ.ক.ম মোজাম্মেল হক) আহবায়ক করে এবং মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা জনাব নজরুল ইসলাম খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট এক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সদস্য হন সর্ব জনাব আয়েশ উদ্দিন, মো. নুরুল ইসলাম (ভাওয়াল রত্ন), মো. আ. ছাত্তার মিয়া (চৌরাস্তা) থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম হজরত আলী মাস্টার (চৌরাস্তা), মো. শহীদ উল্ল্যাহ বাচ্চু (মরহুম), হারুন-অর-রশিদ ভূঁইয়া (মরহুম), শহিদুল ইসলাম পাঠান জিন্নাহ (মরহুম), শেখ আবুল হোসেন (শ্রমিক লীগ), থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সাঈদ বকস্ ভূঁইয়া (মরহুম)। কমিটির হাই কমান্ড (উপদেষ্টা) হন জনাব মো. হাবিব উল্ল্যাহ (মরহুম), শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা এম এ মুত্তালিব এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নেতা বাবু মনিন্দ্রনাথ গোস্বামী (মরহুম)।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার পূর্বেই আমরা এ কমিটি গঠন করেছিলাম। পেছনের ইতিহাস এই যে, আমি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস’-এর সাথে সম্পৃক্ত হই। নিউক্লিয়াসের উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। যা মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৬২ সালেই ছাত্রলীগের মধ্যে গঠিত হয়েল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যেই সশস্ত্র যুদ্ধ করে পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে বাঙালি সৈন্যদের মধ্যেও নিউক্লিয়াস গঠিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। যার বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যাবে পাকিস্তানিদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্ব-ঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের দায়ের করা ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান’ মামলায় যা বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের সাথে জড়িত থাকার কারণেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ।
জয়দেবপুরে (গাজীপুর) সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ৩ মার্চ, ১৯৭১-এ গাজীপুর স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের বটতলায় এক সমাবেশ করে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দেয়া হয়। স্লোগান ওঠে ‘ইয়াহিয়ার মুখে লাথি মার বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। পতাকা ধরেছিলেন হারুন ভূঁইয়া এবং অগ্নিসংযোগ করেছিলেন শহীদউল্যাহ বাচ্চু আর স্লোগান মাস্টার আ. ছাত্তার মিয়া পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে স্লোগান দিত।
আমরা ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী (তৎকালীন রেসকোর্স) উদ্যানে সে সময় জয়দেবপুর থেকে হাজার হাজার বীর জনতা ট্রেনে করে এবং শতাধিক ট্রাক ও বাসে মাথায় লাল ফিতা বেধে জনসভায় যোগ দিলাম। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। আজকে ভাবতেও অবাক লাগে কীভাবে এ জনস্রোত এসে মিশে গিয়েছিল ৭ মার্চের মহাসমুদ্রে। ৭ মার্চে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সম্ভবত ১১ মার্চ গাজীপুর সমরাস্ত্র কারখানা (অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি) আক্রমণ করি। গেটে বাধা দিলে আমি হাজার হাজার মানুষের সামনে টেবিলে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেছি মাইকে। পাকিস্তানিদের বুঝতে পারার জন্য ইংরেজিতে বলি: I do hereby dismiss Brigadier Karimullah from the directorship of Pakistan Ordnance Factory and do hereby appoint Administrative officer Mr Abudul Qader (বাঙালি) as the director of the ordnance Factory’.
এই গর্জনে সত্যি কাজ হয়েছিল। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার বক্তৃতা চলাকালীনই পেছনের গেইট দিয়ে সালনা হয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে আসেন। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার ১৫ এপ্রিলের পূর্বে গাজীপুরে যাননি। পাকিস্তান সমরাস্ত্র কারখানা ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমাদের দখলেই ছিল। সম্ভবত ১৩ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাহেবজাদা ইয়াকুব আলী জয়দেবপুর রাজবাড়ী মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করার চেষ্টা করলে শত শত বীর জনতা হেলিকপ্টারের প্রতি ইট পাটকেল ও জুতা ছুড়তে শুরু করে। ফলে হেলিকপ্টার নামতে না পেরে ফিরে যায়।
সেদিন ১৭ মার্চ বুধবার, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নেমেছিল ৩২ নম্বরে, বঙ্গবন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। তৎকালীন আমাদের নির্বাচনী এলাকার এম এন এ জনাব সামসুল হক (পরবর্তী কালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সদস্য), জনাব হাবিব উল্ল্যাহসহ আমি গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুকে জয়দেবপুরে ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার সংবাদ দিতে। সন্ধ্যায় আমরা পেছনে দাঁড়িয়ে আছি দেখতে পেয়ে কিছু বলতে চাই কিনা বঙ্গবন্ধু জানতে চান। কুর্মিটোলা (ঢাকা) ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে অজুহাতে ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে রক্ষিত অস্ত্র আনার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত নেবার সংবাদ জানাই। সামসুল হক সাহেবের ইশারায় আমি তরুণ হিসেবে এ অবস্থায় আমাদের কি করণীয় জানতে চাইলে, বঙ্গবন্ধু বাঘের ন্যায় গর্জে উঠে বললেন, ‘তুই একটা আহাম্মক, কি শিখেছিস যে আমাকে বলে দিতে হবে’। একটু পায়চারী কের পুনরায় বললেন, ‘বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে দেয়া যাবে না। Resist at the cost of anything.’
নেতার হুকুম পেয়ে গেলাম। ১৯ মার্চ শুক্রবার আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি বিগ্রেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরস্থ ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়। একজন নায়েব সুবেদার জয়দেবপুর হাইস্কুলের মুসলিম হোস্টেলের পুকুরে (জকি স্মৃতির প্রাইমারী স্কুলের সামনে) গোসল করার সময় জানান যে, ঢাকা থেকে বিগ্রেডিয়ার জাহান জেব চলে এসেছে। খবর পেয়ে দ্রুত আমাদের তখনকার আবাসস্থান মুসলিম হোস্টেলে ফিরে গিয়ে উপস্থিত জনাব হাবিবউল্ল্যাহ ও শহীদুল্ল্যাহ বাচ্চুকে এ সংবাদ জানাই। শহীদুল্ল্যাহ বাচ্চু তখনই রিকশায় চড়ে শিমুলতলীতে, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, ডিজেল প্লান্ট ও সমরাস্ত্র কারখানায় শ্রমিকদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে জয়দেবপুর চলে আসার খবর দেয়। ১ ঘণ্টার মধ্যে মাঠে হাজার শ্রমিক জনতা চারিদিক থেকে লাঠি, দা, কাতরা, ছেন, দোনালা বন্দুকসহ জয়দেবপুর উপস্থিত হয়। সেদিন জয়দেবপুর হাটের দিন ছিল। জয়দেবপুর রেল গেইটে মালগাড়ির বগি, রেলের অকেজো রেল লাইন, স্লিপারসহ বড় বড় গাছের গুড়ি, কাঠ, বাঁশ, ইট ইত্যাদি যে যেভাবে পেরেছে তা দিয়ে এক বিশাল ব্যারিকেড দেয়া হয়। জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আরো ৫টি ব্যারিকেড দেয়া হয় যাতে পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র নিয়ে ফেরৎ যেতে না পারে। ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ (পরবর্তী কালে প্রধান সেনাপতি)। আমরা যখন ব্যারিকেড দিচ্ছিলাম তখন টাঙ্গাইল থেকে রেশন নিয়ে একটি কনভয় জয়দেবপুর আসছিল। সেই রেশনের গাড়ি জনতা আটকে দেয়। সে কনভয়ে থাকা ৫ জন সৈন্যর চাইনিজ রাইফেল তাদের নিকট থেকে কেড়ে নেয়া হয়।
এ দিকে রেল গেইটের ব্যারিকেড সরানোর জন্য ২য় ইস্ট বেঙ্গলের রেজিমেন্টকে জাহান জেব আদেশ দেয়। কৌশল হিসেবে বাঙালি সৈন্যদের সামনে দিয়ে পেছনে পাঞ্জাবি সৈন্যদের অবস্থান নিয়ে মেজর শফিউল্লাহকে জনতার উপর গুলি বর্ষণের আদেশ দেয়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা আমাদের উপর গুলি না করে আকাশের দিকে গুলি ছুড়ে সামনে আসতে থাকলে আমরা বর্তমান গাজীপুর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের উপর অবস্থান নিয়ে বন্দুক ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সেনাবাহিনীর উপর গুলি বর্ষণ শুরু করি।
পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে জয়দেবপুরে শহীদ হন নেয়ামত ও মনু খলিফা। আহত হন চতরের সন্তোষ, ডা. ইউসুফসহ শত শত বীর জনতা। পাক বাহিনী কার্ফু জারি করে এলোপাথারি গুলিবর্ষণ শুরু করলে আমাদের প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। আমরা পিছু হটলে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে ব্যারিকেড পরিস্কার করে ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব চান্দনা চৌরাস্তায় এসে আবার প্রবল বাঁধার সম্মুখীন হন। নামকরা ফুটবল খেলোয়াড় হুরমত এক পাঞ্জাবী সৈন্যকে পেছন দিয়ে আক্রমণ করে। আমরা সৈন্যের রাইফেল কেড়ে নেই। কিন্ত পেছনে আরেক পাঞ্জাবী সৈন্য হুরমতের মাথায় গুলি করলে সে সেখানেই শাহাদাত বরণ করে। বর্তমানে সেই স্থানে চৌরাস্তার মোড়ে ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামে ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে।
পরদিন বঙ্গবন্ধু আলোচনা চলাকালে পাক বাহিনীর আক্রমণে ১৯ মার্চের নিহতের কথা উল্লেখ করলে জেনারেল ইয়াহিয়া খান উল্লেখ করে যে, জয়দেবপুরে জনতা পাক বাহিনীর উপর আধুনিক অস্ত্র ও চাইনিজ রাইফেল নিয়ে আক্রমণ করেছে এবং এতে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক সৈন্য আহত হয়েছে।
১৯ মার্চের পর সারা বাংলাদেশে স্লোগান ওঠে, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর-সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু কর’। ১৯ মার্চের সশস্ত্র যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক মাইল ফলক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৯ মার্চ জাতীয় জীবনে এক স্মরণীয় দিন। তাই জাতীয়ভাবে এই দিবস পালিত হলে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যায়ন যথার্থভাবে হবে বলে আমি মনে করি।
রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৮

সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে হতাশা।

কাছাকাছি গিয়ে আবারো শিরোপা হাতছাড়া করার আক্ষেপ সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। শেষ বলে যখন ৫ রান প্রয়োজন, তখন কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ভারতকে ম্যাচ জেতান দিনেশ কার্তিক। দলের এমন হারে হতাশ পুরো বাংলাদেশ দল। সেই হতাশায় যেন প্রতিধ্বনিত হলো বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠে।
ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন, ‘এমন ফাইনাল নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমার ধারণা, আমরা দারুণ খেলেছি। যে কেউ ম্যাচটি জিততে পারত। কিন্তু স্নায়ুচাপটা ভারত ভালোভাবে সামলেছে।’ এ সময় রুবেলের করা ওভারটিকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে মন্তব্য করেন সাকিব, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমাদের সেরা বোলার ১৮ ও ১৯ ওভারে বল করুক। ওই ওভারে রুবেল যদি ১৫ রানও দিত, তবু আমরা সামলাতে পারতাম। সে যদিও তার লেংথ মিস করেনি, কিন্তু দিনেশ কার্তিক দারুণ খেলেছে। প্রথম বলে এসেই ছক্কা মেরেছে। আমরা জানতাম, ১৬৬ রানে ম্যাচ জেতা কঠিন। তবু আমাদের আশা ছিল। সবাই তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। হারাটা কষ্টের। কিন্তু আমরা ভালো খেলেছি।’
এর আগে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারো ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের টপঅর্ডার। যদিও শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। ৩.১ ওভার থেকে ২৭ রান তুলে নেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। এর পরই সেই পুরনো রোগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আঁটসাঁট বোলিং করা ওয়াশিংটন সুন্দরের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে সার্কেলের মধ্যেই সুরেশ রায়নার হাতে ধরা পড়েন লিটন। অতি আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিলেন ৯ বলে ১১ রান করা লিটন। পরের ওভারেই বিদায়ঘণ্টা বাজল দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালের। এ সময় যুজবেন্দ্র চাহালকে লংঅনের ওপর দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন এ বাঁহাতি ওপেনার। সীমানার ধার থেকে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন শার্দুল ঠাকুর। ১৩ বলে ১৫ রান করেন তামিম।
একই রানের মাথায় ২ উইকেট পতনের পরও উচ্চাভিলাষী শট খেলা থামাননি টপঅর্ডারের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা। সৌম্য সরকারের ইনিংসটি স্থায়িত্ব পায় মাত্র ২ বল। উইকেটে এসে থিতু না হয়েই বিগ হিট নিতে যান এ বাঁহাতি। এ সময় চাহালকে অনেকটা ফ্রন্টফুটে সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ধরা পড়েন সৌম্য। একই ওভারে দুটি উইকেট পান চাহাল। এ অবস্থায় দল তাকিয়ে ছিল আগের ম্যাচগুলোয় দারুণ ব্যাট করা মুশফিকের দিকে। শুরুটা করেছিলেন বেশ সতর্কভাবেই। কিন্তু চাহালের গুগলিকে ছক্কা মারতে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে তাকে। ব্যক্তিগত ৯ রানে পরিণত হন বিজয় শঙ্করের ক্যাচে।
সাব্বির প্রান্ত আগলে রেখেও সামলাতে পারেননি ধস। ভালো খেলার ইঙ্গিত ছিল আগের খেলার ম্যাচ উইনার মাহমুদউল্লাহর। সাব্বিরের সঙ্গে একটা ভালো জুটির ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন। ১৬ বলের ইনিংসে করেন ২১ রান। ২৫ বলের জুটিতে পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৩৬ রান। কিন্তু এর পরই বিনা মেঘে বজ্রাঘাত! পরিস্থিতি ভুলে অযথাই রানের জন্য দৌড় দিলেন মাহমুদউল্লাহ। মাঝপথে গিয়ে থেমেও গেলেন। সুযোগ কাজে লাগালেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। এ রানআউট থেকেও শিক্ষা হয়নি। ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই রানআউট হলেন সাকিবও। ৭ বলে ৭ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বাংলাদেশ ইনিংসের সবটুকু জুড়েই সাব্বির। ১৮.২ ওভারের মাথায় ব্যক্তিগত ৭৭ রানে সাজঘরমুখো হন সাব্বির। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের (৭ বলে ১৯*) আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত এ রান জেতার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ভারত জিতে নেয় শিরোপা।

আবারও নাগিন ড্যান্সের অপেক্ষায় দেশবাসী।
নিজস্বপ্রতিবেদক:২০১৫ বিশ্বকাপের সেই ঘটনাবহুল কোয়ার্টার ফাইনালের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের আবহে বাজে যুদ্ধের দামামা। প্রতিটি ম্যাচেই থাকে উত্তেজনার রসদ। এবারের প্রেক্ষাপট একটু অন্যরকম হলেও মঞ্চটা বারুদ ছড়ানোর জন্য একেবারে আদর্শ। শ্রীলংকায় ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে আজ বাংলাদেশের সামনে ভারত।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে শিরোপা লড়াই। এক ম্যাচে অনেক হিসাব মেলানোর আছে বাংলাদেশের। টি ২০ তে দু’দলের আগের সাত ম্যাচে কখনও ভারতকে হারাতে না পারার হতাশার গল্পটা নতুন করে লেখার চ্যালেঞ্জ। টেস্ট মর্র্যাদা পাওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কখনও কোনো প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে না পারার ধারায় ছেদ টানার চ্যালেঞ্জ। আজ জিতলে খুলে যাবে ফাইনালের গেরোও। এমন ম্যাচে বাড়তি চাপ তো থাকবেই।
আশার কথা হল, সিরিজে নিজেদের আগের ম্যাচেই স্নায়ুচাপের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় উতরে গেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার শ্রীলংকার বিপক্ষে অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেয়া প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচের শেষ ওভারে মাঠ ও মাঠের বাইরে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ছাড়িয়ে গেছে আগের সবকিছুই।
শেষ ওভারে লংকান পেসার উদানা টানা দুটি বাউন্সার দেয়ার পরও আম্পায়ার ‘নো’ বলের সংকেত না দেয়ায় রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল মাঠ। ক্ষণিকের উত্তেজনায় মেজাজ হারিয়ে একপর্যায়ে দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল তাতে সাড়া দিলে এ বিতর্ক গড়াত বহুদূর।
তবে শেষ পর্যন্ত শুভবুদ্ধির জয় হয়। দুর্দান্ত এক ছক্কায় এক বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশকে দুই উইকেটের অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। এত নাটক ও তীব্র øায়ুচাপ সামলে শ্রীলংকার মাটিতে শ্রীলংকাকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর ভারতকে আর অজেয় ভাবার কোনো কারণ নেই বাংলাদেশের। শ্রীলংকা সফরের আগে যে হতাশা ঘিরে ধরেছিল দলকে, সেটি কেটে গেছে। এবার ভারত ও ফাইনাল-জুজু কাটাতে প্রস্তুত সাকিবরা।
এরআগে এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে যতবারই ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ, প্রতিবারই পুড়তে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের হতাশায়। ঢাকায় ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনালে এই ভারতই ছিল বাংলাদেশের ঘাতক।
ওই বছরই বাঙ্গালোরে টি ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের কাছে এক রানের সেই অবিশ্বাস্য হারের দুঃস্মৃতি আজও তাড়া করে টাইগারদের। তবে এবার নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে তীব্র স্নায়ুচাপ সামলে দলকে জিতিয়ে বাঙ্গালোর ব্যর্থতার প্রায়শ্চিত্ত করে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। মানসিক বাধার দেয়াল গুঁড়িয়ে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকেই আজ তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় গৌরবগাথায় আরেকটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করার মিশনে নামবেন। অধিনায়ক সাকিবের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে আরও উজ্জীবিত দল।
নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশ দলের জন্য এক কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছে বিসিবি। ফাইনালে জিততে পারলে আরও বড় বোনাস অপেক্ষা করছে সাকিব-তামিমদের জন্য। তবে ভারতকে হারাতে বাড়তি প্রেরণার প্রয়োজন নেই বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে ভারতও আজ চাপে থাকবে। প্রাথমিক পর্বে অবশ্য দু’বার বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা। কোহলি-ধোনিদের মতো মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই টানা তিন ম্যাচ জিতে ফেভারিটের মতোই ফাইনালে উঠেছে ভারত।
তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ যে নতুন রূপ নিয়েছে, তাতে নির্ভার থাকতে পারছেন না দিনেশ কার্তিক। শনিবার কলম্বোয় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জানালেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন যেকোনো ম্যাচই কঠিন। কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন কার্তিক, ‘উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ এখন খুবই ভালো দল। চাপ থাকবেই। সমস্যা হল, আমাদের সমর্থকরা ধরেই নেন বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা জিতব। জিতলে কোনো বাহবা নেই। কিন্তু হারলেই শুনতে হয়, ‘তোমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছ। কী করেছ তোমরা? আমি নিশ্চিত, এবারও তাই ঘটবে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সফল। শেষ ম্যাচটাও জিততে চাই। আমি নিশ্চিত, খুব ভালো একটা ম্যাচ হবে।’
সেই ভালোটা বাংলাদেশের জন্য শেষ ভালো হলেই হয়!
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে শিরোপা লড়াই। এক ম্যাচে অনেক হিসাব মেলানোর আছে বাংলাদেশের। টি ২০ তে দু’দলের আগের সাত ম্যাচে কখনও ভারতকে হারাতে না পারার হতাশার গল্পটা নতুন করে লেখার চ্যালেঞ্জ। টেস্ট মর্র্যাদা পাওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কখনও কোনো প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে না পারার ধারায় ছেদ টানার চ্যালেঞ্জ। আজ জিতলে খুলে যাবে ফাইনালের গেরোও। এমন ম্যাচে বাড়তি চাপ তো থাকবেই।
আশার কথা হল, সিরিজে নিজেদের আগের ম্যাচেই স্নায়ুচাপের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় উতরে গেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার শ্রীলংকার বিপক্ষে অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেয়া প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচের শেষ ওভারে মাঠ ও মাঠের বাইরে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ছাড়িয়ে গেছে আগের সবকিছুই।
শেষ ওভারে লংকান পেসার উদানা টানা দুটি বাউন্সার দেয়ার পরও আম্পায়ার ‘নো’ বলের সংকেত না দেয়ায় রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল মাঠ। ক্ষণিকের উত্তেজনায় মেজাজ হারিয়ে একপর্যায়ে দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল তাতে সাড়া দিলে এ বিতর্ক গড়াত বহুদূর।
তবে শেষ পর্যন্ত শুভবুদ্ধির জয় হয়। দুর্দান্ত এক ছক্কায় এক বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশকে দুই উইকেটের অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। এত নাটক ও তীব্র øায়ুচাপ সামলে শ্রীলংকার মাটিতে শ্রীলংকাকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর ভারতকে আর অজেয় ভাবার কোনো কারণ নেই বাংলাদেশের। শ্রীলংকা সফরের আগে যে হতাশা ঘিরে ধরেছিল দলকে, সেটি কেটে গেছে। এবার ভারত ও ফাইনাল-জুজু কাটাতে প্রস্তুত সাকিবরা।
এরআগে এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে যতবারই ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ, প্রতিবারই পুড়তে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের হতাশায়। ঢাকায় ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনালে এই ভারতই ছিল বাংলাদেশের ঘাতক।
ওই বছরই বাঙ্গালোরে টি ২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের কাছে এক রানের সেই অবিশ্বাস্য হারের দুঃস্মৃতি আজও তাড়া করে টাইগারদের। তবে এবার নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে তীব্র স্নায়ুচাপ সামলে দলকে জিতিয়ে বাঙ্গালোর ব্যর্থতার প্রায়শ্চিত্ত করে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। মানসিক বাধার দেয়াল গুঁড়িয়ে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকেই আজ তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় গৌরবগাথায় আরেকটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করার মিশনে নামবেন। অধিনায়ক সাকিবের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে আরও উজ্জীবিত দল।
নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশ দলের জন্য এক কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছে বিসিবি। ফাইনালে জিততে পারলে আরও বড় বোনাস অপেক্ষা করছে সাকিব-তামিমদের জন্য। তবে ভারতকে হারাতে বাড়তি প্রেরণার প্রয়োজন নেই বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে ভারতও আজ চাপে থাকবে। প্রাথমিক পর্বে অবশ্য দু’বার বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা। কোহলি-ধোনিদের মতো মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই টানা তিন ম্যাচ জিতে ফেভারিটের মতোই ফাইনালে উঠেছে ভারত।
তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ যে নতুন রূপ নিয়েছে, তাতে নির্ভার থাকতে পারছেন না দিনেশ কার্তিক। শনিবার কলম্বোয় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জানালেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন যেকোনো ম্যাচই কঠিন। কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন কার্তিক, ‘উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ এখন খুবই ভালো দল। চাপ থাকবেই। সমস্যা হল, আমাদের সমর্থকরা ধরেই নেন বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা জিতব। জিতলে কোনো বাহবা নেই। কিন্তু হারলেই শুনতে হয়, ‘তোমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছ। কী করেছ তোমরা? আমি নিশ্চিত, এবারও তাই ঘটবে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সফল। শেষ ম্যাচটাও জিততে চাই। আমি নিশ্চিত, খুব ভালো একটা ম্যাচ হবে।’
সেই ভালোটা বাংলাদেশের জন্য শেষ ভালো হলেই হয়!
শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৮

লুৎফর হাসানের কবিতা
"যাচ্ছো? যাও। "

যাচ্ছো?
যাও।
তুমি ফিরতে ফিরতে এদিকে সন্ধ্যা নামবে, সারাটা দুপুর দখলে নেবে ঘন অন্ধকার। আমাকে পূনর্বার উজ্জ্বল আলোয় ফেরাতে তোমার সময় লেগে যাবে বেশ।
যাচ্ছো?
যাও।
তুমি ফিরতে ফিরতে এদিকে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করবে, আমার ভিটেমাটি দখলে নেবে তেড়ে আসা জলোচ্ছ্বাস। আমাকে পূনর্বার থিতু করতে তোমার ক্ষয়ে যাবে মেলা কিছু।
যাচ্ছো?
যাও।
তুমি ফিরতে ফিরতে এদিকের আকাশ উধাও হবে।
ক্ষ্যাপাটে রোদ্দুর খেয়ে নেবে আমাদের সংরক্ষিত মেঘমালা। আমাকে পূনর্বার ভেজাতে তোমার কলস খালি হয়ে যাবে।
যাচ্ছো?
যাও।
স্বল্প আয়ুর এই যাপিত জীবনে স্বর্গের হাওয়া নিয়ে আসতে ফিরে এসো তবে,
ফিরে এসো সহসাই।
আমি আশায় বুক বেঁধে আছি প্রিয়তমা।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট
Labels
- ইতিহাসের পাতা (1)
- খেলাধুলা (2)
- মুক্ত খবর (10)
- সাহিত্যের পাতা (6)